|
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা নদী ভাঙ্গন রক্ষা প্রকল্পের কাজে সরকারের সর্বশেষ নীতিমালা উপেক্ষা করে দরপত্র আহবান করায় স্থানীয় ঠিকাদারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৭ মার্চ দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন,
বিশেষ ঠিকাদারদের সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যেই ওই প্রকল্পের নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় ২শ’ ঠিকাদার ওই দরপত্রে অংশ নিতে পারছে না। কেবল বহিরাগত বিশেষ কিছু ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। ফলে গত কয়েক দিন ধরে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঠিকাদাররা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও। বুধবার বিকেলে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে পাউবো’র স্থানীয় ঠিকাদাররা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ এবং ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি প্রদান করেন।লিখিত অভিযোগে ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ.এস.এম শহিদ মারুফ উল্লেখ করেন, যমুনা নদীর হাত থেকে সাঘাটা থানা বন্দর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় যমুনার ডান তীর রক্ষায় প্রায় সাড়ে ৫ কি:মি অংশের জন্য ২০১০-’১১ অর্থ বছরে ১শ’ ৩৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়।
গত বছর প্রায় ৩৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। ওই দরপত্র পিপিআর-২০০৮ এর শর্ত অনুযায়ী ৭টি গ্র“পের প্রত্যেকটিতে ভাগ করে দেয়া হয় ৫ কোটি টাকার কাজ। ফলে স্থানীয় কোন ঠিকাদার ওই দরপত্রে অংশ নিতে পারেনি। কারণ স্থানীয় ঠিকাদারদের ২ কোটি টাকার উপর কাজ করার কোন সুযোগ নেই। কিছু সংখ্যক সিন্ডিকেট ভুক্ত ঠিকাদার ওই কাজ ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ায় পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তখন ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, সর্বশেষ পিপিআর-২০০৯ অনুযায়ী ২ কোটি টাকার প্যাকেজ করার সুযোগ করে দেয়া হয়। কিন্তু ওই নীতিমালা দরপত্র আহবানের ক্ষেত্রে আমলে নেয়া হয়নি।
অপর দিকে প্রথম পর্যায়ের ৩৫ কোটি টাকার কাজের এ পর্যন্ত মাত্র ২০ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকী কাজ আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ওই বিশেষ সুবিধাভোগী ঠিকাদাররা ৫০ ভাগ কাজ করাও সম্ভব হবে না। অথচ স্থানীয় ঠিকাদারদের ভাগাভাগি করে কাজ দেয়া হলে জুনের মধ্যে ওই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ওই প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজে প্রায় ৫১ কোটি টাকার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। পিপিআর-২০০৮ এর শর্তানুযায়ী এবারও দরপত্র আহবান করায় পাউবো’র তালিকাভূক্ত স্থানীয় ঠিকাদাররা এতে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।
অথচ এর আগে কাজের সুবিধার্থে ও দ্রুত কাজ সম্পাদনের জন্য ২ কোটি টাকার মধ্যে ছোট ছোট প্যাকেজে বিভক্ত করে গাইবান্ধায় নদী ভাঙ্গন রোধে বহু কাজ করার নজীর রয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় বসে কতিপয় ঠিকাদার ও আমলা সিন্ডিকেট করে পিপিআর-২০০৮ এর বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে পাউবো’র কাজগুলি ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। আর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা তাদের লোক দিয়ে ধীরগতিতে কাজ করায় তাদের কাজের অগ্রগতি মোটেই হচ্ছে না।পাউবো’র ঠিকাদার সমিতির সভাপতি শাহজাহান খান আবু বলেন, দাবী আদায় না হলে লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে।
ওই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে। পরবর্তীতে ঘেরাও, অনশন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল মোস্তফা আসাফুদ্দৌলা ঠিকাদারদের একটি স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ডিপিপি বর্তমান পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী অনুমোদন করা হয়েছে। পরিবর্তন করতে হলে প্লানিং কমিশনের অনুমোদন লাগবে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
|