|
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: ঝিনাইদহে বিচিত্র সব অনিয়ম, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, দলীয়করন,আত্নীয় করন ঘুষ বানিজ্য’র শংকা-আশংকা আর অভিযোগের মধ্যে দিয়ে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা।
ঝিনাইদহ জেলা শহরের ২৪টি কেন্দ্রে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবেন ১৮ হাজার ৩শত ৫৭জন চাকরী প্রার্থী। এরমধ্যে সর্বেচ্চো পরীক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়।জানা গেছে, সদরে ৪ হাজার ৩শ, শৈলকূপায় ৩ হাজার ৬’শ ৫০, মহেশপুরে ২ হাজার ৯৫০, হরিনাকুন্ডু উপজেলায় ২ হাজার ৫’শ ৭ জন, কালীগঞ্জে ২ হাজার ৫’শ এবং কোটচাঁদপুর উপজেলায় ২ হাজার ৪ শত ৫০ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবেন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে চলছে নানামুখী অপতৎপরতা আর ষড়যন্ত্র।
কতিপয় জন প্রতিনিধিদের নামে টাকা গ্রহন করা হচ্ছে। ফলে যোগ্য আর মেধাবীরা রয়েছে চাকুরী না পাওয়ার শংঙ্কার মধ্যে। চাকুরী প্রার্থীদের একটি সুত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে পরীক্ষার হলে পাশাপাশি আসন বন্টন, পছন্দের লোককে ডিউটিতে নিযুক্ত করা, সংশিষ্ট কেন্দ্র প্রধানকে ম্যানেজ করে নকল সরবারহ করা, এমনকি একজনের বদলে অন্যজনকে প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষা দেয়ানোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। সুত্রটি আরো জানায়, পরীক্ষায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া অথবা সদ্য বের হওয়া ক্ষমতা আশ্রিত ছাত্র সংগঠনের ছাত্রদের একটি অংশ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মহড়া দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিট নিয়ে অথবা নিজের খাতায় অন্যের রোল নাম্বার লিখে পরীক্ষায় পাশ করানোর দায়িত্ব নিয়েছে তারা।
এজন্য প্রতি ছাত্রকে দেয়া হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে শহরের পাশ^বর্তী কেন্দ্রগুলোর কোন কোন নিদিষ্ট রুম বিশেষ সংখ্যাক পরীক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেখানকার পরীক্ষার্থীদেরকে দেয়া হবে পাশ করার শতভাগ নিশ্চয়তা। এরমধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দিশারী প্রি ক্যাডেট স্কুল, শিশুকুঞ্জু, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক কেন্দ্রকে বিক্রি করে দেয়া হয় দুর্নীতির নিরাপদ কেন্দ্র হিসাবে। সুত্রটি নিশ্চিত করেছে একই দিনে একই সাথে এ ধরনের একটি পরীক্ষা নিতে গিয়ে সংশিষ্ট বিভাগও অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারী প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ পরীক্ষা নিতে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। ফলে সবাইকে যেমন নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আনা যাচ্ছে না তেমনি এই সুযোগে এক শ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী বানিজ্য।
পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়া আব্দুর রহমান জানান, ডুপ্লিকেট প্রবেশপত্র নিতে তাকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কয়েকজন কেন্দ্র প্রধান জানান, এই পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন চাপের মধ্যে আছি। একটি গোষ্টি অবৈধ সুযোগ নিতে বাধ্য করছে। তাদের কথা না রাখলে নিজের চাকুরী এমনকি আর্থিক ও শারীরিক কিংবা পরিবার পরিজন নিয়েও সমস্যা হতে পারে। এ নিয়ে হৈচৈ না করে চুপ থাকা ভালো। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অনিয়মের কথা স্বীকার বা অস্বীকার না করে জানান, এতো বড় একটি পরীক্ষা সত্যিই চ্যালেজ্ঞ। কিন্তু আমাদের তো লোকবল নেই। তিনি জানান, প্রতিটা নাগরিক যদি সৎ মনোভাব নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন, তাহলে তো দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই। তবে তিনি দাবি করেন, এই পরীক্ষা নিয়ে চারিদিক থেকে যেসব গুজব কানে আসছে তা যদি সত্যি হয় তবে জাতির জন্য সেটা অমঙ্গলই বয়ে আনবে।
|