|
আব্দুস সালাম :: মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের ষাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাহাড় পরিমাণ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তিনি বহালতবিয়েতে মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে দীর্ঘদিন থেকে জেঁকে বসে আছেন, তাই প্রশ্ন তার খুঁটির এত জোর কোথায়?
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের ষাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: মিজানুর রহমান এর একছত্র আধিপত্য ও দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বিপর্যস্থ। কর্মচারী ও স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত আত্বীয়দের সহায়তায় প্রশাসনকে জি্িম্ম করে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিগ্নে। জেলার এমএসআর ক্রয় দুর্নীতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হবার পর ৩০/১২/১৯৯৮ খ্রি: মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক নং-স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-১৩/শৃংখলা-২১/৯৯/৩০৯০ তাঃ ০৯/২/১৯৯৯ তে মোঃ মিজানুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে বরখাস্ত করা হয়। কালো টাকার জোরে এক বছর পর আবার চাকুরিতে ফিরে যায়। অথচ ঐ একই অভিযোগে আরো কয়েকজনকে বার বছর পর্যন্ত বরখাস্ত করা হয়
এবং তারা বার বছর শাস্তি ভোগ করেন। মিজানুর রহমান কিছু দিন সিভিল সার্জন অফিসে, ঢাকায় চাকুরি করে ঘুষের বিনিময়ে আবার মুন্সিগঞ্জ ফিরে আসে। এরা আবার শুরু করে দুর্নীতি। মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে প্রতিটি নিয়োগে মিজানের দুর্নীতির কথা সকলের জানা। এ পর্যন্ত মিজান মুন্সিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে তার আত্বীয়দের মধ্যে ড্রাইভার অফিস সহকারী এম.এল.এস.এস স্বাস্থ্য সহকারী ডি.এস.আই পদে ১৩ জনকে চাকুরি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়। এছাড়াও ঘুষের বিনিময়ে আরো অনেককে চাকুরি দিয়েছেন। তার ঘুষের প্রমাণ গত এক দেড় বছর পূর্বে মুন্সিগঞ্জ শহরস্থিত মাঠপাড়ায় তার ভাই এম্বুলেন্স ড্রাইভার মনির হোসেন ২০ লাখ টাকায় স্ত্রীর নামে ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছে এবং মিজানুর ২০ লাখ টাকায় পাঁচশতাংশ জায়গা ক্রয় করেছে। এছাড়া মিজানের শেয়ার ব্যবসায় লগ্নী করা আছে ২৫ লাখ টাকার মত। যাহা মতিঝিলস্থ লতিফ সিকিউরিটি এক্সেঞ্জে খোঁজ নিলে জানা যাবে এবং তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে যে, একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী এত টাকার মালিক হয় কিভাবে?
মো: মিজানুর রহমানের একছত্র আধিপত্য তার অফিসরুমে গেলে দেখা যাবে বসার রুমের ভিতরে আরো একটি রুম আছে, যেখানে ডিশ কানেকশনসহ রঙ্গিন টিভি, বিশ্রামের জন্য হাসপাতালের স্টীল ঘাট এবং সিভিল সার্জন অফিসের তৃতীয় তলায় অবস্থিত গেষ্ট হাউসের একটি রুম তার ব্যবহারের জন্য দখলে আছে। একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে মেডিকেল অফিসারের মটর সাইকেল ব্যবহার করেন যা তার এখতিয়ার বর্হিভূত। ডাক্তারদের ফাইল মিজানের নিকট, যেখানে বিনা অর্থে কোন কাজ হয় না।
মিজানের পছন্দের ব্যক্তিকে এমএসআর, প্রইভেট ক্লিনিক ফাইল দেওয়া হয় যাতে তার নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রাইভেট ক্লিনিক ফাইল যার ছিল তার সঙ্গে মিজানের বনিবনা না হওয়ায় তাকে বদলি করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই ফাইল দেওয়া হয়েছে মিজানের পছন্দের প্রোগ্রাম অর্গানাইজরকে, যার কাজ মাঠ পর্যায়ে এবং তিনি একজন সহকারী স্কেলের নিচের কর্মচারী। এখন প্রাইভেট ক্লিনিকগুলি থেকে নিরব চাঁদা তোলা হচ্ছে।
মিজান বর্তমান কর্মস্থলের প্রায় ৮/৯ বছর ধরে কর্মরত। দুর্নীতির কারণে গত ৩০/১০/২০১১ খ্রি: মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। কিন্তু ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার নিকট হতে প্রত্যয়ন সংগ্রহ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন, এতে তার প্রায় ২ লাখের উপর টাকা খরচ হয়েছে। তাই প্রশ্ন এত টাকা খরচ করে দীর্ঘদিন মুন্সিগঞ্জে থাকার প্রয়োজন কি এবং তার এত টাকার উৎস কোথায়?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট আমার মান ক্ষুন্ন করার জন্যই এই লিফলেট আকারে বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছে। এইসব ঘটনার সাথে আমি কখনই জড়িত নই।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন বনদ্বীপ লাল দাস বলেন, মিজানুরর রহমানের আগে পরে দূর্নীতির অভিযোগ আমার জানা নেই তবে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
|